আমার স্বামীর কাজকর্ম ভালই চলছিল। উনার বসুন্ধরা সিটিতে নিজের দোকান। আমাদের একটা মেয়ে আছে। কিন্ত তাঁর পেশাগত জীবনের শান্তি আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে দেখা যেত না।

fullsizeoutput_123f

[Part 1/2]
 
“আমার সব থেকে ভাল বন্ধুর সাথে আমার বন্ধুত্ব স্কুল থেকে। আমরা একজন আরেকজনকে অনেক ভালবাসতাম। আমার বাবা মাও ওকে নিজের মেয়ের মত ভালবাসতেন। আমাদের সম্পর্ক আপন বোনের মত ছিল। ওর বাবা-মা অনেক রাগী ছিলেন। ও যখন এইচ.এস.সি পাশ করতে পারল না, ওর বাব ওকে ঘর থেকে বের করে দেয় আর বলে নিজের ব্যবস্থা করে নিতে। ওই রাতে ও আমার বাসায় আশ্রয় নেয়। বাসায় তখন মাত্র একজনের চলার মত খাবার ছিল। ও আসবে শুনে আমি আবার ভাত রান্না করি। যদিও ঠিকমত রান্না হয় নাই। আমি এটা বুঝতে পারি যখন ও খেতে খেতে কাঁদছিল। আমি প্রথমে ভাবি ও বাবা মার জন্য কাঁদছে, কিন্ত পরে ও আমাকে বলে যে সারাদিন কঠোর পরিশ্রমের পরেও আমি ওর জন্য রান্না করেছি, ও জানে না কিভাবে আমার ভালবাসার প্রতিদান দিবে। ও পরে সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকায় গিয়ে কাজ খোঁজার। আমার বাবা মা ওর ব্যাগ আর জিনিসপত্র গুছিয়ে দেন ঠিক আমার জন্য যেমন করতেন ঐভাবে। এর কিছুদিন পর আমার বিয়ে হয়ে যায়।
 
আমার স্বামীর কাজকর্ম ভালই চলছিল। উনার বসুন্ধরা সিটিতে নিজের দোকান। আমাদের একটা মেয়ে আছে। কিন্ত তাঁর পেশাগত জীবনের শান্তি আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে দেখা যেত না। উনার আরেক মহিলার সাথে সম্পর্ক ছিল। আমি অনেকবার দোকান মালিক সমিতির কাছে অভিযোগ করি কিন্তু কিছুই হয় নি। মেয়ের কথা মাথায় রেখে বিয়েটা টিকিয়ে রাখার নাটক করি। সবাই আমাদের ব্যপারটা জানত। আমার স্বামী কখনই এটা ঢাকার চেষ্টাও করত না। মাঝে মাঝে আমি যখন তাকে খুঁজতে বের হতাম, উনার বন্ধুরা আমাকে দেখে বলত যে আমি একদিন অনেক বড় হব। যত দিন যেতে থাকে আমার স্বামীর অবহেলা বাড়তে থাকে। আমি আমার বান্ধুবীর কাছে আমার সমস্যার কথা বলি। ও যেকোনভাবে আমাকে সাহায্য করবে বলে। ও আমার স্বামী কে তিন লাখ টাকা দেয়ার কথাও বলে যদি বদলানোর কথা দেয়। আমি তখন ওর কাছে আমার জন্য এক লাখ টাকা চাই, যাতে করে আমি একটা ছোট ব্যবসা শুরু করতে পারি। আমার মেয়েকে নিয়ে একা, একটা অপরিচিত শহরে, বেঁচে থাকার জন্য আমি দিন রাত কাজ করি। আমি এই জায়গাটা ভাড়া নিয়ে দর্জি দোকান খুলি। দিনের বেলায় আমি কাপড়ের অর্ডার নিতাম। আর রাতে ঝুড়ি আর অন্যান্য জিনিস বানাতাম বিক্রি করার জন্য। আমার প্রথম বড় অর্ডার ছিল স্কুল ড্রেসের। ওই অর্ডার থেকে আমি ৩০,০০০ টাকা আয় করি। এর পর থেকে আমাকে আর কখনও পিছন ফিরতে হয় নাই।”
– একজন দর্জি
 

 
“My best friend and I have been friends since school. We loved each other a lot. My parents used to love her as much as they loved me. You could say we are sisters in a way. Her parents were very strict. When she failed her HSC exams, her father threw her out of the house and told her to make a living on her own. At a loss, she took shelter at my house. That night, there was enough food for just one person. Upon hearing that she would be staying at our place, I quickly cooked rice. It wasn’t properly cooked. I realized this when she was eating and drops of tears were rolling down her cheeks. At first, I thought it was because of her parents but she told me later that even after a day of hard work, I had the energy to cook for her and that she does not know how she would repay me for the love that I had for her. She decided to go to Dhaka and find work to make a living. My parents helped her pack her things as they would have, for me. I got married a little later.
 
My husband was doing very well professionally. He owned a shop at Bashundhara City. We had a beautiful daughter. However, his professional bliss did not reflect in our personal lives. He had an affair with another woman. I had complained several times to the shop owners committee but nothing had happened. For the sake of my child, I stayed in the marriage and played along with the sham. Everyone knew the truth about our marriage. My husband barely kept anything a secret. Often when I would set out to look for him, his friends would take pity on me and say I would be very successful one day. My husband cared lesser by the day. I shared the truth about my marriage with my best friend. She wanted to help in every way she possible. She even offered to give my husband 3 lac Taka if he promised to change. I told my friend to lend me 1 lac Taka instead so that I could start a business of my own. Alone, with my daughter, in a city I knew nothing about, I worked day and night to make a living. I rented this place and opened a tailor shop. During the day I took orders for clothes. At night I would make baskets and other things to sell. My first big order was for school uniforms. I earned about 30,000 Taka from that order. I never had to look back ever since.”
– A tailor shop owner.
 

This story is featured in Made In Equality, an initiative supported by C&A Foundation.