প্রথম যেদিন ওই বাসায় গেলাম, আনন্দে মন ভরে গেলো। এতো বড় বাসায় থাকবো, ফ্রিজের ঠান্ডা পানি খাবো, সোফায় বসে টিভি দেখবো- ভাবতেই কেমন যেন মন ভরে উঠলো। কিন্তু মা আমাকে দিয়ে চলে যেতেই সেই আনন্দ নিমিষে উবে গেলো।

Story of an operator at a garment factory

“অনেক কাজ করেছি এই জীবনে। সেই ছোটবেলায় গ্রাম থেকে আসি মায়ের হাত ধরে। বাবা আরেকজনকে বিয়ে করে পর হয়েছে আরো আগেই। সেদিনই বুঝে গিয়েছিলাম কাজ না করলে একবেলাও ভাত জুটবেনা। সেই থেকেই শুরু। অনেকের কাছে আকুতি মিনতি করে মা নিজের কাজ জুটিয়ে নিয়েছিলো একটা বাসায়। সেই বাসায় মা ঘর মুছতো, রান্নাবান্না করতো। দিনশেষে সেই বাসার উচ্ছিষ্ট খাবার নিয়ে আসতো। আমরা সেই খাবারই খেতাম মনভরে। কিন্তু এভাবে বেশিদিন চলছিলো না। একটা সময় মা আমাকে টুকটাক কাজের জন্য একটা বাসায় থাকতে দিয়েছিলো। সেই বস্তির ঘুপচি ঘর থেকে আমি উঠে আসলাম বিশাল ফ্ল্যাটে। প্রথম যেদিন ওই বাসায় গেলাম, আনন্দে মন ভরে গেলো। এতো বড় বাসায় থাকবো, ফ্রিজের ঠান্ডা পানি খাবো, সোফায় বসে টিভি দেখবো- ভাবতেই কেমন যেন মন ভরে উঠলো। কিন্তু মা আমাকে দিয়ে চলে যেতেই সেই আনন্দ নিমিষে উবে গেলো। শুরু হলো প্রচন্ড মারধর আর অপমানের সময়। কিভাবে যে সেই দিনগুলো পার করেছি, মনে হলে এখনো গায়ে কাঁটা দেয়। তিন বছর এভাবে সেই নরকে কাটিয়েছি আমি। এরই মধ্যে পাশের এক মহানুভব মানুষের সাথে ভাব হলো আমার। কিভাবে সেটা বলতে গেলে দিন কেটে যাবে। শুধু এইটুকু বলি, মানুষটা আমাকে আলোর মুখ দেখিয়েছে। আমাকে এই গার্মেন্টসে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছে। মানুষটা এখন আমার স্বামী। বেশ সুখে কেটে যাচ্ছে এখন আমাদের দিন।”

– একটি তৈরি পোশাক কারখানার অপারেটর।


“I have worked a lot in this lifetime. I moved to the city from my village with my mother when I was very young. My father had severed ties with us a long time back after marrying someone else. That day, I realized that the only way I could survive was by working. It all started at that point. After a lot of requests at many places, my mother had finally arranged for work at a house. She used to cook and clean after the family. At the end of the day, she would bring the leftovers for us to eat. But, this arrangement did not work out for long. At one point, my mother put me in a house to work as a permanent servant. I went to a huge flat from the dark and tiny corners of our slum. The first time I entered that house, I was overwhelmed! The thought of drinking from a fridge, sitting on a sofa, watching television, left me thrilled. But, all that vanished the moment my mother left. Being beaten and insulted became constant in my life ever since. I still can’t think about those days. I spent three years there. During this time, I met a very generous person. That’s another long story! If it wasn’t for him, I wouldn’t have seen any light of hope. He arranged for a job for me at this garment factory. He is my husband now. Life is good now.”

– An operator at a garment factory

This story is featured in Made In Equality, an initiative supported by C&A Foundation.