আমার বুঝতে একটু সময় লেগেছিল যে এই শিল্পে সাফল্যের চাবিকাঠি হল প্রচণ্ড চাপে কাজ করা। যারা স্থির হয়ে অনেক বোঝা টানতে পারবে, তারাই সফল হবে এবং বেশি আয় করবে। চাপ বলতে আমি বুঝাতে চাচ্ছি এক সাথে অনেক কাজ করা।

30706882_2049817615299572_5620570696636694528_o

“স্নাতকের পরের সময়টি ছিল আমার জন্য একটু অনিশ্চিত। সাধারণত যখন বন্ধুদের সাথে পড়াশোনা করা হয়, তখন একে অপরের রেফারেন্স দিয়ে ইন্টার্নশীপ পাওয়া সম্ভব। তবে আমার ক্ষেত্রে তা হয়নি। বিশবিদ্যালয়ে শেষ বছরের প্রোজেক্ট আমার সবার আগে শেষ হয়েছিল। যখন আমি ইন্টার্নশীপ খুঁজছিলাম তখন অন্যরা তা নিয়ে ভাবছিলও না। বাবার মাধ্যমে আমি আমার প্রথম ইন্টার্নশীপ পেলাম দেশের বরেণ্য টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠানের একটিতে। কিন্তু আমার সংগ্রাম এইখানেই শেষ হয়নি। আহসানুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগে কেউ স্কোয়ার টেক্সটাইলে ইন্টার্নশীপ করেনি। তাই রিপোর্ট লেখার সময় আমি কারো সাহায্য পাইনি।
 

শুরুতে ভেবেছিলাম যে ইন্টার্নশীপটি হবে একটি মজার জায়গা। আমি ভুলে গিয়েছিলাম যে টেক্সটাইল শিল্পের কিভাবে ঘার ধরে কাজ আদায় করা হয়। যদিও আমি মেজর করেছিলাম “বস্ত্র উৎপাদনে”, আমার প্রথম চাকরি ছিল পোষাক শিল্পে। প্রতিদিন আমি কারখানায় ঢুকতাম সকাল সারে সাতটায় আর বের হতাম রাত বারোটায়। উৎপাদন শেষ হত রাত দশটায়। তারপর উৎপাদনের তথ্য দিয়ে আমাকে প্রতিবেদন লিখে সেটা ইমেইল করতে হত। জরুরি রপ্তানির ক্ষেত্রে এর থেকে বেশিক্ষণ কাজ করতে হত। আমার ব্যাস্ততার সবেচেয়ে খারাপ অনুভূতি ছিল যখন আমার পরিকল্পনা দলের ২ জন সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন। সেদিন আমার ৩ জনের কাজের বোঝা টানতে হয়েছিল। দুই কানে দুই ফোনে কথা বলছিলাম এবং আরো দুটি কল ওয়েটিং এ ছিল।

আমার বুঝতে একটু সময় লেগেছিল যে এই শিল্পে সাফল্যের চাবিকাঠি হল প্রচণ্ড চাপে কাজ করা। যারা স্থির হয়ে অনেক বোঝা টানতে পারবে, তারাই সফল হবে এবং বেশি আয় করবে। চাপ বলতে আমি বুঝাতে চাচ্ছি এক সাথে অনেক কাজ করা। যখন আমি আমার চাকরি শুরু করি এম টি ও হিসেবে তখন আমাকে তিন চারটি কাজ করতে হত একসাথে। যখন আমি কার্যনির্বাহী হলাম তখন পুরো ফ্লোরের দায়িত্ব আমাকে দিয়ে দেওয়া হল। ঠিক এইভাবেই কাজের চাপ ও বেতন বাড়তে থাকে পদোন্নতির সাথে। আমার মতে এমন কোন শিল্প নেই যেখানে নাকি টেক্সটাইলের মত পদোন্নতি করা সম্ভব।
যদি আমাকে বলা হয় যে আমি এই শিল্পে কি বদলাতে চাই, তাহলে আমি বলবো যেভাবে কাজ ভাগ করা হয় সেটি। আমি চাই যে যেন সবার মধ্যে কাজ সমান ভাবে ভাগ করা হয়। এমন অনেক সময় ছিল যখন যারা বসে কাজ করতো তাদের দেখে আমার হিংসা হত। আমি ভাবতাম তারা কেন আরামে বসে কাজ করতে পারছে যেখানে আমি সারাটা দিন দৌড়ের উপর থেকে কাজ শেষ করতাম। এটি বিস্ময়কর হবেনা যদি তুমি আমার এই চিন্তা কে শিশুবৎ বলে মনে করা হয়।”
 

“The post-graduation period was a little uncertain for me. Usually, when you graduate with your friends you can use each other’s references to get an internship. My case, however, was different. I was the first one to complete our final year project. So no one was thinking of internships when I was looking for one. Through my father’s contacts, I landed an internship in one of the leading textile companies in the country. However, my struggles didn’t end here. No one from Ahsanullah University had done their internships here. So I had no assistance while preparing my internship report. My initial expectations from the internship were that it would be a fun place. I was oblivious to the fact that how hard you are pushed to go that extra mile in the textile industry. Though I did my major and internship in Fabric Manufacturing, my first job was in a garment factory. I would enter the factory at 7:30 am and leave at midnight. I had to wait till the floor production ended at 10 pm and then had to prepare and email reports based on production data. In cases of emergency export, the working hours used to be even longer.
 
The most hectic experience for me was when the other two members of my planning team were absent on the same day. Those days I had to take the workload of three people at once! Once, I was on two phone calls at the same time with two more on call waiting! It took me some time to realize that the key to success in this industry is dealing with pressure. Those who can stay calm and perform well under pressure will excel at their work and will be rewarded with a high salary. By pressure, I mean the ability to multitask. In this industry, you don’t need a fancy degree. All you need is experience and the ability to multitask. When I began my career as an MTO, I had to do 3-4 tasks every minute and when I became an executive I was given the responsibility of an entire floor. That is how the work pressure and salaries accelerate with higher positions. I don’t think there are any other industries that experience this amount of exponential growth in salary like the textile industry.
 
If I were to change anything about this sector then it would be the distribution of work. I would like an equal distribution of work. There were sometimes when I would envy those workers who could sit and work. At times, I thought why was I on my feet the entire day to get work done while they could just sit comfortably and complete their work. It wouldn’t be surprising to call these thoughts silly or childish.”

This story is featured in Made In Equality, an initiative supported by C&A Foundation.