একটা মজার ব্যাপার শুনবেন? সেই প্রথম চার মাসে তারা আমাকে সেলাইয়ের কাজের জন্য বেতন দেয়ার জায়গায় উল্টা আমার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ বাবদ টাকা নেয়! এমনটাই যে এই ঢাকা শহর।

Meet The Makers - Tailor in Bangladesh 1

“সেই ছোট বেলায় ঢাকা আসি আমি রাজবাড়ী থেকে। অনেক সময় পেরিয়ে আজ এতো দূর আশা। এইযে এই মাপার ফিতাটা দেখতেছেন? এই ফিতাটাই যে আমার সঙ্গী হয়ে আছে সেই কবে থেকে; যেই সময় থেকে আমি সেলাইয়ের এই অবিরাম সাধনায় জড়িত হই, ঠিক তা পূরণের লক্ষ্যে, তখন থেকে। আমি শেখা শুরু করি নিউ মার্কেটের এক অন্ধকার কোণার ছোট্ট একটা দর্জি দোকানে। প্রথম সপ্তাহ গুলো যেন জীবনের সবচেয়ে কঠিন ছিল। আমার এক মামা তার এক বন্ধুর কাছে আমায় তালিম নিতে দেন। একটা মজার ব্যাপার শুনবেন? সেই প্রথম চার মাসে তারা আমাকে সেলাইয়ের কাজের জন্য বেতন দেয়ার জায়গায় উল্টা আমার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ বাবদ টাকা নেয়! এমনটাই যে এই ঢাকা শহর। খুবই অদ্ভুত একটা জায়গা যেটা আমি এখানে আসার পর পরই টের পাই। তাই অতটা অবাক লাগেনি আমার। চার মাসের মাথায় আমি নিজের সাথে নিয়ে আসা অল্প টাকা প্রায় সবটুকুই শেষ করে ফেলি কাজ শেখার পিছে। সেলাইয়ের কাজটা ভালো করে শিখে ফেলার পর আমি অন্য জায়গায় কাজ খোঁজা শুরু করি যাতে করে এই একই কাজের জন্য কিছু টাকা উপার্জন করতে পারি। সৌভাগ্যক্রমে, পাশের গলির এক চাচা আমাকে নিজেকে মেলে ধরার একটা সুযোগ দিলেন। আর কয়েক সপ্তাহ যেতে না যেতেই, রেডি-মেড প্যান্টের কাটিং ফিটিংয়ের জন্য আমি এক নং কারিগর হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিতি পেলাম।

এটা আমি অবশ্যই শিকার করবো যে প্রথম প্রথম এইসব আমার খুব ভালো লাগতো। এটা ছিল অল্প কাজের বিনিময় চটজলদি টাকা উপার্জনের সেরা মাধ্যম। কিন্তু দুই বছরের মাথায়, এই একই রকমের কাজ বার বার করাটা কেমন বিতৃষ্ণা ধরিয়ে দিলো আমার মধ্যে। তাই আমি আরেক জায়গায় অন্য কিছু করার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকলাম। আমার সঠিক মনে নেই কিভাবে, কিন্তু আমার তখনকার কোনো এক রুমমেট আমাকে একটা দর্জি দোকানের মালিকের সাথে পরিচয় করে দেয়। আর তখনই আমি সুযোগ পাই একজন সম্পূর্ণ দর্জি হিসেবে কাজ করার। আর সেই থেকেই আজ আমার এতো দূর আসা। পাড়া-মহল্লায় আমার সুনাম আছে যে আমি একদম ঠিক মাপের শার্ট বানাই। আর কিছু গুটি কয়েক কাস্টমার আছেন যারা গত কয়েক বছর ধরে শুধু আমাকে দিয়েই তাদের শার্ট বানান। সত্যি বলতে, আমি যখন কাউকে দেখি আমার তৈরী করা শার্ট গায়ে দিয়ে চলাফেরা করছে, তখন আমার ভেতরে কেমন একটা অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে। দিন শেষে, সব ঠিকঠাক মতোই হয়। সেই নিউ মার্কেটে কাজ শেখার জন্য টাকা খরচ করাটা যে আজ আমার অনকূলেই আসলো।”

– একজন গর্বিত কারিগর।


“I moved to Dhaka from Rajbari as a young boy. It’s been a long journey ever since. You see this measuring tape? It has been a long journey with this tape; an endless pursuit of stitching the perfect fit ever since I picked up this skill. I started my training at a small shop in a dark corner of New Market as an apprentice. The first few weeks were the hardest! One of my uncles put me in the training program under one of his colleagues. Want to know a funny thing? For the first four months, they charged money as a ‘training fee’ for teaching me to sew in a machine instead of paying me for the work I did. Such is Dhaka! It’s a funny place, I had discovered that for myself soon after I moved here. Thus, this wasn’t a big surprise. By the fourth month or so, I had given away almost all of the little money I had tucked in with myself as I moved here. After I picked up on sewing well, I began looking for jobs elsewhere to get paid for the same work I was doing. Luckily, a Chacha in a nearby shop down the alley decided to give me a chance at proving my skill. In a matter of weeks, I became the go-to person for quick fixing the length of ready made pants.

I must admit, I enjoyed it at first. It was fast work and quick money. But by the end of my second year at the same repetitive task, I got bored. I had learnt to do better. I started looking around for other opportunities. I don’t clearly remember how, but one of my roommates back then linked me up with the owner of this shop. Perhaps giving shape to shirts from mere pieces of fabric for people was worth a shot! Thus, began my long run here. I am well known around this neighborhood for making shirts that fit right. I have few clients who get their shirts made only by me, here for years now. There is a great sense of fulfillment in seeing them wear that shirt; in knowing that I made it. At the end of the day, things do fall in place. Paying for my training at New Market did pay off in one form or another after all!”

– A Proud Maker

 

This story is featured in Made In Equality, an initiative supported by C&A Foundation.