আমি সবসময় এটা বিশ্বাস করেছি যে জীবনটা অর্থময় হওয়ার জন্য তাতে কোনো দুঃখের ঘটনা থাকতেই হবে, এমনটা নয়। আমি আমার মা-বাবা, ভাই-বোন এবং আত্মীয়-স্বজন, সবাইকে দেখেছি নিজেদের দুঃখ-দুর্দশার মাঝে জীবনের মানে খুঁজার চেষ্টা করতে।

Meet The Makers - Tailor in Bangladesh 2

“বিক্রমপুর থেকে মোহাম্মদপুর – অনেক বড়ো একটা জায়গা বদল করে আজ আমি এখানে। ঢাকা আসি অনেক অল্পবয়সে, তখন আমি অনেকটা উদ্দীপ্ত আর রোমাঞ্চময় ছিলাম। তাই তো এদিক-সেদিক ছোট-খাটো কাজ করে দিন কাটাতাম। কখনো আমি মানুষের ঘরবাড়ি পরিবর্তনের সময় সব জিনিসপত্র টানাটানি করতাম। এক দিনের মধ্যে দ্রুত কিছু টাকা রোজগারের জন্য ওই কাজটা সবচেয়ে ভালো ছিল। শুনতে হয়তোবা সেটা অনেকটা কষ্টকর মনে হতে পারে কিন্তু আমি অসুখী ছিলাম না। ছোট বেলা থেকেই আমি স্বপ্ন দেখতাম এই শহরে বাস করার। এটা সত্যি করতে পারবো তাই তো চেয়েছিলাম। এই স্বপ্নকে আমি বাস্তবরূপে অতিবাহিত করতে যেয়ে যে হঠাৎই আমার এলাকার একটা মিষ্টি মেয়ের প্রেমে পরে যাবো তা আমি কখনো ভাবতেও পারিনি। এটা কখনোই আমার চিন্তা আর পরিকল্পনায় ছিলনা। কিন্তু পরিকল্পনা বদলায় সেটা তো বটেই। আমি সবসময় এটা বিশ্বাস করেছি যে জীবনটা অর্থময় হওয়ার জন্য তাতে কোনো দুঃখের ঘটনা থাকতেই হবে, এমনটা নয়। আমি আমার মা-বাবা, ভাই-বোন এবং আত্মীয়-স্বজন, সবাইকে দেখেছি নিজেদের দুঃখ-দুর্দশার মাঝে জীবনের মানে খুঁজার চেষ্টা করতে। আমি কখনো মনে করিনি যে এভাবে জীবনের অর্থ খোঁজার কোনো প্রয়োজন আছে। মানুষের পরিকল্পনা এবং চিন্তা বদলানোই তো জীবন।

যেহেতু আমি এখন একজনকে ভালোবাসছি, তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার জন্য তো আমার একটা স্থায়ী উপার্জনের জায়গার দরকার ছিল। আমাদের পরিবারের সবাই কমবেশি সেলাই আর বুননের কাজ করতো। আমার মা-খালারা আমাদের গ্রামের সেই ছোট্ট ঘরের উঠানের সামনে বসে প্রতিদিন বিকেলে সেলাই-সুতার কাজ করতো। এই সব মাথায় ঘুরপাক খেতে খেতেই আমি চিন্তা করলাম মোহাম্মদপুরের কিছু দর্জি দোকানে নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করার। সেখানে এক এক করে সব দোকানে যেয়ে কথা বলার পর, পঞ্চম দোকানে আমি একটু আশার আলো দেখতে পেলাম। তারা রাজি হলো আমাকে প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য। তবে প্রথম মাসে তারা আমাকে কোনো রকমের টাকা-পয়সা দিবে না সেটাও আমাকে সাফ সাফ জানিয়ে দিলো। তার সাথে তারা আমাকে এটাও বললো যে আমি যদি প্রথম মাসের পর থেকে কাজ ডেলিভারি দিতে পারি তাহলে তারা আমাকে পারিশ্রমিক দিবে। বেশ, তাই তবে। আমি শুরু করলাম। যেই সময় পর্যন্ত ওই মালিকের সেই জায়গায় দোকান ছিল, ঠিক সেই সময় পর্যন্ত ওই জায়গাটা আমার দ্বিতীয় ঠিকানায় পরিণত হলো। তারপর ১৯৯৭ সালে সেই দোকানটা অন্য এলাকায় স্থানান্তরিত হলো। এবং সেই সময় পর্যন্ত, আমি আমার প্রথম এবং আমার পরম ভালোবাসার মানুষটি কে বিয়ে করে ফেলেছি এবং প্রভুর কৃপায় আমাদের ফুটফুটে তিনটি মেয়েও জন্ম নিয়েছে।

১৯৯৭ আমার জন্য পরিকল্পনা বদলের আরেকটি বছর ছিল। এবংএই সময়ে আমার আগের তুলনায় কাজের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা ছিল। কয়েক সপ্তাহ এদিক ওদিক খুঁজে দেখার পর, আমি এই জায়গায়, ঠিক এই ডেস্কেই চাকরি পেয়ে গেলাম। আমি এখানে গত বিশ বছর ধরে সকাল দশটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত ডিউটি করি”

– একজন গর্বিত কারিগর।


“From Bikrampur to Mohammadpur, it’s been a big jump! I was young, thrilled, and up for an adventure when I made my way to Dhaka. I picked up on small one-off jobs here and there to get by. Sometimes, I’d work as a mover, assisting people shifting homes. That was one of the quickest jobs to make some good bucks in a day. It sounds very painful, but I was not unhappy. I had dreamt about living in this city as a child. This is what I wanted! As I went on living the dream, who knew I’d fall in love with a lovely girl in the neighbourhood so soon? That was not part of the plan! But plans change, and that’s okay. I’ve always believed that life doesn’t always have a be a sad story to be meaningful. I’ve seen my parents, relatives, and siblings, all own up to a great deal of misery to be able to find meaning in their lives. I never thought that was necessary, at all. Plans change, and life happens.

Now that I was in love, I had to manage a stable source of income to be able to ask for her hand. Sewing and knitting ran in my family. My mother and aunts would sit in the yard outside our tiny home back in the village and knit every afternoon. I decided to take a leap of faith and try my luck at a few tailors around Mohammadpur. The fifth shop I showed up to finally decided to take me up for training. However, without any payment for the first month. I was told, if I could start delivering work after a month, I would start getting paid. Fair enough. I started. That place became my second home for a few years straight until the owner had to move away to a different area in 1997. By then, I was married with my first and only love and had been blessed with three beautiful daughters!

1997 was another year for change of plans. But this time, I had more experience. After few weeks of looking around, I landed a job here at this very desk. I have been sitting here from 10 AM to 10 PM ever since, for last 20 years.”

– A Proud Maker

This story is featured in Made In Equality, an initiative supported by C&A Foundation.