জাতিসংঘ থেকে আমন্ত্রণ আমার জন্য অনেক গর্বের বিষয়। আমি যখন বিভিন্ন জায়গায় দরকারী কাগজ নিতে গিয়েছি, তখন অনেকেই জিজ্ঞেস করেছে যে এই কাগজ কিসের জন্য। যখন জাতিসংঘের কথা বলেছি, তখন বড় বড় অফিসার বলেছেন যে এটা এমন এক সম্মান যা টাকা দিয়ে কেনা সম্ভব না। সেখানে গিয়ে আমি মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলি। এটাও আমার জন্য অনেক গর্বের ছিল।

27368384_2010599619221372_1094518260891314559_o

“আমি ৯ বছর ধরে গার্মেন্টসে চাকরি করছি। আমার বাড়ি খুলনা, দৌলতপুর। বাবা মা সেখানেই থাকেন। আমি, আমার স্বামী আর ছেলে মিলে আশুলিয়ায় থাকি। আমার গার্মেন্টসে কাজ শুরু ভাই বিদেশ চলে যাওয়ার পর। তখন বাবা মায়ের দায়িত্ব পরে আমার ঘাড়ে। তার উপর বোনটাকেও বিয়ে দিতে হত। সব মিলিয়ে গার্মেন্টস এ যোগ দেই হেল্পার হিসেবে। সেখান থেকে আস্তে আস্তে অপারেটর।
 
ইউনিয়নে কাজ শুরু ওয়ার্কারদের দের প্রতি টান থেকে। মনে হতো ওদের জন্য কিছু করি। কেউ কিছু বলতে না পারলে আমি চেষ্টা করতাম বলতে। আস্তে আস্তে সবার জন্যই এই কাজ গুলো করা শুরু করি। সেখান থেকে নাজমা আপা আর নয়ন ভাইয়ের সান্নিধ্যে আসা। তাদের সাথে সম্মিলিত ফেডারেশনের সাহায্য নিয়ে মালিকের কাছে দাবিনামা দেই একটি ইউনিয়ন গঠন করার। সেই থেকে এই ইউনিয়নের যাত্রা। আর এই সব সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র আওয়াজ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে।
 
জাতিসংঘ থেকে আমন্ত্রণ আমার জন্য অনেক গর্বের বিষয়। আমি যখন বিভিন্ন জায়গায় দরকারী কাগজ নিতে গিয়েছি, তখন অনেকেই জিজ্ঞেস করেছে যে এই কাগজ কিসের জন্য। যখন জাতিসংঘের কথা বলেছি, তখন বড় বড় অফিসার বলেছেন যে এটা এমন এক সম্মান যা টাকা দিয়ে কেনা সম্ভব না। সেখানে গিয়ে আমি মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলি। এটাও আমার জন্য অনেক গর্বের ছিল। আমাকে সুইজারল্যান্ড ঘুরে দেখিয়েছে। ঐখানের যেই বাইয়ারদের কাজ করি তাদের দোকান ঘুরে দেখেছি। আমাদের জিনিস কিরকম বিক্রি হয়, কেমন দামে বিক্রি হয় এসব জানতে পেরেছি। অনেক ভাল লেগেছে। সব থেকে বেশী ভাল লেগেছে যখন লেকের পাড়ে ঘুরতে গিয়েছিলাম।
 
আমার পরিবারে সবাই আমাকে নিয়ে খুব গর্বিত। আমার পরিবার, প্রতিবেশীরা সবাই উৎসাহ দেয় আমার কাজে। আমার স্বামী সব ব্যাপারে সাহায্য করে। বাসার কাজে স্বামীর পাশাপাশি আমার ছেলেও সাহায্য করে। ওদের পাশে না পেলে এতদূর আসতে পারতাম না।
 
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বলতে আমি চাই যাতে অন্যান্য ফ্যাক্টরিতেও ইউনিয়ন গঠিত হয়, ওরাও যেন ভাল থাকে। আমাদের মালিক পক্ষ্য খারাপ না, কিন্তু সাহায্য না চাইলে ওরা কিভাবে সাহায্য করবে? আমাদের মালিকের দিক চিন্তা করতে হবে। ওদের আয় বাড়লে আমাদের আয় বাড়বে। তাই আমাদের ওদের দিকটাও দেখতে হবে। আমাদের ইউনিয়ন রুমের জায়গাটা মালিক পক্ষ্যেরই দেওয়া। সম্মিলিত ফেডারেশনের মাধ্যমে আরেকটা অফিস নিয়েছি আমরা যেখানে অন্য ফ্যাক্টরির ওয়ার্কাররা আসে। ছুটির দিনে ঐখানে যাই, ওদের সাথে কথা বলি। ওরাও ইউনিয়ন করতে চায়।”
– সুইজারল্যান্ডে জাতিসংঘের সম্মেলনে আমন্ত্রিত একজন গার্মেন্টস কর্মীর গল্প
 

 
“I have been working in the garment industry for 9 years now. I am from Doulotpur, Khulna. My parents live there. I, along with my husband and son, live in Ashulia. I started working right after my brother moved abroad as the livelihood of our family fell upon my shoulders. Besides that, I had to arrange for my younger sister’s wedding as well. Altogether, I decided to start working; I joined as a helper in a garment factory and now I work as an operator.
 
I started working with the union because I cared about the workers. I always wanted to do something for them. Whenever someone failed to voice their problems, I tried to help them. Gradually, I started doing these for everyone. That’s how I came to know Najma Apa and Noyon Bhai. With the help of the Federation, we presented our demands to form a union to the garment owners. That is how the union began. This was only possible because of Awaj Foundation.
 
The invitation to speak at the UN conference about business and human rights was a matter of great prestige for me. When I went to different places to get the necessary documents to attend the conference, a lot of people asked what I was applying for. When I mentioned the conference, a lot of senior officers responded saying that it’s an honor to speak at the UN conference; an opportunity, that money cannot buy. While at the conference, I chose to speak in Bangla. It was also another moment of pride for me, to be able to represent my country in our mother language. They showed me around Switzerland. We also visited the stores of the buyers who we work for. We also got to know the price and amount of the products sold through the outlets. I really enjoyed the whole experience! But above all, I loved the walks by the lake.
 
Everyone in my family is really proud of me; even our neighbours. My husband is also very supportive and he helps me with everything. My husband and my son help me with household chores. I wouldn’t have come this far without their relentless support.
 
As for future plans, I want there to be unions in other factories as well so that the workers can lead a better life. Our owners are not bad people, but if we do not ask for their help, how can they help us? We need to think about them as well because our income depends on their income. The room we use for union work is provided by our owner. We have taken another office space with the help of Federation for workers from other factories. On off days, I go there and listen to their problems. They want to form unions in their factories as well.”
– Story of an employee at a garment factory who was invited to speak at the UN Conference in Switzerland

This story is featured in Made In Equality, an initiative supported by C&A Foundation.