সেখানে যেন ভালো পরিবেশে থেকে লেখাপড়া করতে পারে। একটা মায়ের জন্য ছোট বাচ্চাকে দূরে রেখে বড় করা যে কত কষ্ট সেটা মা ছাড়া অন্য কেউ বুঝবে না। বাচ্চাদের জন্য প্রচণ্ড খারাপ লাগতো। শুধুমাত্র ওদের একটা সুন্দর ভবিষ্যতের কথা ভেবে সহ্য করেছি।

26232226_1998087740472560_8778465050534111815_o

“প্রায় ২০-২৫ বছর ধরে আমি কাজ করছি। পরিবারে চার বোনের মধ্যে আমি দ্বিতীয়। দ্বায়িত্বের ভারে কাজ শুরু করতে হয় বেশ আগে। দশ বছর বয়সে মাত্র দেড়শ টাকায় সেলাই এর কাজ শুরু করি। এখন কলম্বিয়া মার্কেটে সেই সেলাই এর কাজই করছি।
 
সারাজীবন কাজ করতে করতেই পার করে দিলাম। প্রচণ্ড পরিশ্রম হত। যেহেতু ভাই নেই, তাই বাবা মাকে দেখার দ্বায়িত্ব ছিল আমাদেরই। বোনের স্বামীদের মধ্যে কেউ কেউ সাহায্য করার চেষ্টা করেছে ঠিকই, কিন্তু এত কম আয়ে আসলে সেভাবে সাহায্য করাটাও কঠিন হয়ে যেত। আমি নিজে পারিনি দেখে ছেলেমেয়েদের ঠিকভাবে পড়াশোনা করাতে চেয়েছি। শুধুমাত্র এই কারণে ওদের ছোটবেলাতেই বরিশালে নানী-বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। সেখানে যেন ভালো পরিবেশে থেকে লেখাপড়া করতে পারে। একটা মায়ের জন্য ছোট বাচ্চাকে দূরে রেখে বড় করা যে কত কষ্ট সেটা মা ছাড়া অন্য কেউ বুঝবে না। বাচ্চাদের জন্য প্রচণ্ড খারাপ লাগতো। শুধুমাত্র ওদের একটা সুন্দর ভবিষ্যতের কথা ভেবে সহ্য করেছি।
 
আমার দুই সন্তনই এখন লেখাপড়া করছে। মাঝপথে ছেলেটার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমি তখন ওর জন্য একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেই, কিন্তু ওরা সময়মত বেতন দিত না। আমার ছেলে এখন আবার লেখাপড়া শুরু করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওর এই সিদ্ধান্তে আমি যে কতটা খুশি তা বলে বোঝানো যাবে না। আমার মেয়ে এখন অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছে, বাংলা সাহিত্যে। আমার সন্তানরা লেখাপড়া করছে এটাই আমার সব থেকে বড় পাওয়া।”
– একজন গার্মেন্টস কর্মী
 

 
“I have been working for almost 20-25 years now. I am the second among four daughters in our family. I had to start working early due to immense responsibility. I started working in the sewing department at the age of ten with a salary of only BDT 150. I do the same work in Columbia market now.
 
I have spent all my life working. Since we don’t have any brothers, the major responsibility of looking after my parents was on us. Some of my brother in laws have been very helpful, but we can only do so much with the little money that we make. Since I never got the chance to study, I wanted my children to receive a proper education. This is why I had to send them away to Barisal at my parents’ place when they were kids. Only a mother understands how hard it is to stay away from her children. I endured the pain in the hope of a better future for them.
 
Both my children are studying now. My son did take a break from his study recently. I had found a job for him but they did not pay on time. My son has finally decided to study again and I could not have been happier with his decision! My daughter is currently a second-year student of Bengali literature. My children studying and living up to our expectations is a reward on its own!”
– An employee at a garment factory

This story is featured in Made In Equality, an initiative supported by C&A Foundation.